ঢাকার ধামরাইয়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে দুই যাত্রীবাহী বাসের মধ্যে এক ভয়াবহ মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী ও শিশুসহ বাসের অন্তত ২০ জন যাত্রী কমবেশি আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
শনিবার (০৬ জুন) দুপুরের দিকে ধামরাই উপজেলার বালিথা এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে ঢাকা ও আরিচাগামী দুটি যাত্রীবাহী বাস বেপরোয়া গতিতে মহাসড়ক দিয়ে যাচ্ছিল। বালিথা এলাকায় পৌঁছালে বাস দুটির চালক নিয়ন্ত্রণ হারান এবং মুখোমুখি প্রচণ্ড সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষের তীব্রতা এতো বেশি ছিল যে, দুটি বাসেরই সম্মুখভাগ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনার পরপরই বাসের ভেতর আটকে পড়া যাত্রী ও স্থানীয়দের চিৎকারে পুরো এলাকায় এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বাসের ভেতরে থাকা যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
দুর্ঘটনার বিকট শব্দ শুনে আশেপাশের ব্যবসায়ী, পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। পরবর্তীতে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকারী দল।
তারা বাসের জানালা ও দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া অংশ কেটে ভেতরে আটকে পড়া রক্তাক্ত ও মারাত্মক আহত যাত্রীদের একে একে বের করে আনেন। স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ নিকটস্থ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের আঘাত গুরুতর হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার পঙ্গু হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হতে পারে।
ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার কারণে ব্যস্ততম ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বালিথা অংশের উভয় লেনে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে করে তীব্র গরমের মধ্যে শত শত দূরপাল্লার যানবাহনের যাত্রী ও চালকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
খবর পেয়ে ধামরাই থানা পুলিশ এবং হাইওয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। তারা রেকারের সাহায্যে দুর্ঘটনাকবলিত বাস দুটিকে সড়ক থেকে সরিয়ে নিলে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে প্রায় এক ঘণ্টা পর মহাসড়কে পুনরায় যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
দুর্ঘটনার বিষয়ে ধামরাই থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বেপরোয়া গতি নাকি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এই সংঘর্ষ ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চালকদের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা অনুসন্ধানে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এই ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানা গেছে।

Dhaka News36