আশুলিয়ার বাইপাইলে শ্রমিক দল নেতা পাষানের নেতৃত্বে চলছে চাঁদাবাজির মহাউৎসব। এবিষয়ে তার নামে একাধিক মামলা হলেও অজানা কারনে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছেন এই নেতা। তার এই কাজের সহযোগী হিসেবে বেছে নিয়েছেন একাধিক ছাত্র হত্যা মামলার আসামি শুটার ইয়াসিনসহ বেশ কিছু সাঙ্গপাঙ্গ। ভুক্তভোগীরা মামলা করে কোন প্রতিকার না পেয়ে চরম আতংকে দিন কাটাচ্ছেন বলে জানান।
শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার কেন্দ্রবিন্দু বাইপাইল বানিজ্য কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এছাড়াও এখানে রয়েছে উত্তর ব্ঙ্গ গামী বাসের শত শত কাউন্টার। শিল্পাঞ্চল হওয়ায় এখানে প্রতিনিয়ত হাজার হাজার লোকের চলাচল। আর এইসব বানিজ্য কর্মের আড়ালে চলছে নিরব চাঁদাবাজি।
জানা যায়, এখানে ফুটপাত দখল করে অস্থায়ী দোকান বসিয়ে মাসে লক্ষ লক্ষ টাকার চাঁদা তোলা হয়। পরিবহন ব্যবসা জবর দখল নিজের লোক নিযোগ করে বৈধ মালিকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। কাউন্টারের প্রতিটি গাড়ি থেকে নিজের লোক দিয়ে চাঁদা নেওয়া হয়। বাইপাইলের কাঁচা বাজার আড়ৎ, মাছের আড়ৎ চলে নিয়মিত চাঁদাবাজি। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আড়তে যে সকল ট্রাক আসে সেই ট্রাক থেকে রাতের আঁধারে নিদিষ্ট হারে টাকা নেওয়া হয়। এছাড়াও আন্ত জেলা ট্রাক চালক কমিটির অবৈধ বিলুপ্ত কমিটি দিয়ে বৈধ কমিটির লোকদের বিতারিত করে চলছে চাঁদাবাজির মহাউৎসব।
নবীনগর আব্দুল্লাহপুর রাস্তার পাসে গড়ে উঠা ভাঙ্গারী মার্কেট জবর দখল করে শুটার ইয়াসিন কে দিয়ে চলছে ত্রাসের রাজত্ব। এই শুটার ইয়াছিন আশুলিয়া থানা যুবলীগ নেতা মইনুল ভুইয়ার অস্ত্রধারী ক্যাডার হিসেবে পরিচিত। সৈরাচার আওয়ামি লীগ সরকারের পতনের পরে ইয়াসিন কিছুদিনের জন্য আত্মগোপনে চলে গেলেও সুযোগ বুঝে আবার তার সহযোগী শামীম, টিটু, হাবিব, হাফিজুল, মঈন কে সাথে নিয়ে বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত হয়েছেন। ইয়াসিনের নামে রয়েছে ছাত্র হত্যা মামলা সহ একাধিক হত্যা মামলা। পাশাপাশি তার সহযোগীদের নামেও রয়েছে বিভিন্ন থানায় হত্যা মামলা।
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানা নিরাপদ সড়ক চাই কমিটির সভাপতি জিএম মিন্টু বলেন, কিছু শ্রমিক নেতা সকালে চাঁদাবাজির বিপক্ষে মাইকিং করে বিকেলে সমঝতা করে। দেশনায়ক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, কোন শ্রমিক নেতা চাঁদাবাজির সাথে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পাষাণের একটি কল রেকর্ড এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে সেখানে তিনি কালাম নামের একজন পরিবহন মালিককে তার সাথে সমঝোতা না করলে তার গাড়ি চলতে দেওয়া হবে না। নবীনগর থেকে চন্দ্রা ও আশুলিয়া রোডে যতগুলো পরিবহন চলবে আমার লোক নিয়ন্ত্রণ করবে।
সাভার পরিবহনের রোড ইনচার্জ জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশ নায়ক তারেক রহমান বলেছেন, রোডে কেন চাঁন্দাবাজি চলবে না, কাউকে চাঁন্দা দিয়ে কোন ব্যানার চলবে না। তার নির্দেশে আমরা কোন চাঁন্দা দেই না। কিন্তু কিছুদিন হলো বাইপাইলের পাষান নামক একজন আমাকে ফোন করে হুমকি দেয় যে, চাঁন্দা দিতে হবে, চাঁন্দা না দিলে ব্যানার চলবে না। আমি ১৭ বছর যাবৎ বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত, আমি তো চাঁন্দা দিয়ে ব্যানার চালাব না, লাগে ব্যানার বন্ধ থাকবে। এটা আমার কোম্পানি অর্ডার এটা আমার অর্ডার।

Dhaka News36