জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় চাঁদা না দেওয়ায় ৩টি সেচ পাম্পের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এতে পানির অভাবে অন্তত দেড় শতাধিক বিঘা বোরো আবাদি জমি চরম সংকটে পড়েছে বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।
ভুক্তভোগীরা বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মেলান্দহ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এর আগে সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে উপজেলার ৫ নম্বর চর এলাকায় তারাবির নামাজ চলাকালে অগোচরে ৩টি সেচ পাম্পের বিদ্যুৎ লাইনের তার কেটে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, ওই এলাকার আব্দুল হাইয়ের ছেলে বেনজির (২৭), মৃত ফকিরের ছেলে ফজলু, ঘরি মিয়ার ছেলে জিয়াউল হক এবং আসাদুল রিপনসহ আরও কয়েকজন পাম্প চালু রাখতে প্রতি পাম্পে ৫০ হাজার টাকা করে মোট দেড় লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
তারা দাবি করেন, প্রায় তিন বছর ধরে সরকারি নিয়ম মেনে বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে সেচ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি চাঁদা না দেওয়ায় রাতের অন্ধকারে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। সংযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে লিটন নামের এক কৃষককে মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে।
সেচ পাম্প মালিক কৃষক আব্দুর রাজ্জাক জানান, তার নিজের প্রায় ২০ বিঘা জমিসহ পাম্পের আওতায় থাকা প্রায় ৫০ বিঘা জমিতে বর্তমানে সেচ বন্ধ রয়েছে। পানির অভাবে জমিতে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং ধানক্ষেত শুকিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
পাশ্ববর্তী কৃষক বাবুল হাসান বলেন, বোরো ধান রোপণের জন্য জমি প্রস্তুত থাকলেও পানি না থাকায় চারা রোপণ করতে পারছেন না। এতে বীজ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই পরিস্থিতিতে রয়েছেন কৃষক আসাবউদ্দিনসহ আরও অনেকে।
কৃষকদের মতে দ্রুত সংযোগ পুনঃস্থাপন না হলে পুরো মৌসুমের আবাদ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং শতাধিক কৃষক পরিবার আর্থিক সংকটে পড়বে।
এ বিষয়ে জামালপুর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুব আজাদ রুবেল বলেন, “বৈধ গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ অন্য কেউ বিচ্ছিন্ন করতে পারে না। আইনের দৃষ্টিতে এটি দণ্ডনীয় অপরাধ। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হবে।”
এই বিষয়ে অভিযুক্ত ফজলু সেচ পাম্পের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার বিষয়টি স্বীকার করলেও চাঁদা দাবি ও মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
অন্য অভিযুক্ত বেনজির দাবি করেন, “এলাকায় বিদ্যুতের ভোল্টেজ কম থাকায় সেচ পাম্প ঠিকমতো চলে না। তাই এলাকাবাসী মিলে লাইন কেটে দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে কোনো মারামারি হয়নি।”
এ বিষয়ে মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবায়দুর রহমান জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। কৃষি নির্ভর এই এলাকায় সেচ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ায় পুরো মৌসুমের বোরো আবাদ অনিশ্চয়তায় পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।

Dhaka News36