শেরপুরে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম নিহত হয়েছেন। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাত পৌনে ১০টার দিকে তিনি মারা যান।শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের নির্বাচনী ইশতেহার পাঠের অনুষ্ঠানে মঞ্চে বসাকে কেন্দ্র করে এ সহিংসতার সূত্রপাত হয়। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার দুপুরে ঝিনাইগাতী উপজেলার মিনি স্টেডিয়াম মাঠে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ইশতেহার অনুষ্ঠান শুরুর প্রস্তুতির সময় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন। অনুষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল মঞ্চে আসার পর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরাও সেখানে বসেন।
এ সময় স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের কয়েকজন কর্মী-সমর্থক সামনের সারিতে বসার জায়গা নিয়ে হট্টগোল শুরু করেন। কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।
সংঘর্ষের সময় মঞ্চের সামনে রাখা কয়েকশ চেয়ার ভাঙচুর করা হয় এবং অনুষ্ঠানস্থলে থাকা একাধিক মোটরসাইকেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ঘটনায় জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নূরুজ্জামান বাদল অভিযোগ করেন, বিএনপি ও তাদের সমর্থকরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে জামায়াতের কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে তাদের দলের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করে তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
অন্যদিকে, বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, জামায়াত পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেছে। তাদের হামলায় বিএনপির অনেক নেতাকর্মী আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ বিষয়ে ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, “সব প্রার্থীদের নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ইশতেহার পাঠের আয়োজন করা হয়েছিল। বসার বিষয় নিয়ে সামান্য উত্তেজনা তৈরি হলেও তা বড় আকার ধারণ করে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”
শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভূঁঞা জানান, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সহায়তায় পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। এখনো কোনো মামলা হয়নি, তবে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Dhaka News36